মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের ইতিহাস

ঐতিহ্যমণ্ডিত সভ্য একটি জনপদ হিসেবে আবহমান কাল থেকে স্বীকৃত দুটো কুঁড়ি একটি পাতা, হাওড়-বাওড়, পাহাড় বেষ্টিত এই জেলা শহর মৌলভীবাজার। শিক্ষানুরাগী কতিপয় মহতী মানুষের প্রচেষ্টায় ১৯৫৬ সালের ১ জুলাই শহরের দক্ষিণ প্রান্তে প্রতিষ্ঠা পায় উচ্চ শিক্ষার স্বর্ণালী সোপান এই মৌলভীবাজার কলেজ। তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক জনাব এম. আরিফ স্থানীয় বিশিষ্ট বিদ্যানুরাগী ও দানশীল ব্যক্তিবর্গকে নিয়ে এ কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। এই কলেজের প্রথম অধ্যক্ষ ছিলেন অবিভক্ত ভারতের আসাম প্রদেশের জনশিক্ষা পরিচালক মরহুম জনাব আবুল লেইছ সা’দ উদ্দিন আহমদ। কলেজ প্রতিষ্ঠায় যাঁদের অবদান স্মরণীয় হয়ে আছে তাঁদের সকলের নাম স্বল্প পরিসরে উল্লেখ করা সম্ভব না হলেও বিশেষ কয়েকজনের নাম শিক্ষার্থীদের জানার জন্য উল্লেখ করা প্রয়োজন। কলেজ প্রতিষ্ঠার নেতৃত্বে ছিলেন সর্বজনাব মরহুম দেওয়ান আলহাজ্ব আব্দুল বাছিত (প্রাক্তন মন্ত্রী), মরহুম হাজী কেরামত আলী, মন্মথ পোদ্দার (মৌলভী টি এস্টেট এর মালিক), মরহুম মোঃ ইনাম উল্লাহ, মরহুম সুনা উল্লাহ, এন. কে. পাত্র, ব্যোমকেশ ঘোষ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী চাম্পালাল সান্ড, সৈয়দ সরফরাজ আলী, সৈয়দ আশরাফ আলী, আলী হায়দার খান প্রমূখ। মরহুম হাজী কেরামত আলী সাহেবের একক অর্থায়নে (যার বাড়ী কমলগঞ্জ উপজেলার ভানুগাছের কুমড়াকাপন গ্রামে) বর্তমান শিক্ষক মিলনায়তন সংলগ্ন উত্তর দিকের পুরাতন বিজ্ঞান ভবনটি নির্মিত হয়। ইসলামপুরের মরহুম হাজী জরিপ মিয়াসহ অসংখ্য দাতাদের নাম কলেজের বিভিন্ন স্থানে এবং কলেজের উত্তরদিকের পুরাতন ভবনের গায়ে ঠিকানাসহ খোদাই করা আছে (যা আলোকচিত্র অংশে সন্নিবিষ্ট হয়েছে)। উল্লেখ্য যে, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় কলেজের অনেক মূল্যবান কাগজপত্র বিনষ্ট হওয়াতে সবার নাম উল্লেখ করা সম্ভব হয়নি। বিশেষ বিশেষ ব্যক্তিত্বকে জিজ্ঞেস করে এবং ইতোপূর্বে ম্যাগাজিন, স্মরণিকা ইত্যাদি পাঠে যেসব তথ্য পাওয়া গেছে তার ভিত্তিতেই বিশেষ নামগুলো উল্লেখ করা হয়েছে। স্বাধীনতা সংগ্রামে এ কলেজের শিক্ষকবৃন্দ ও শিক্ষার্থীদের উল্লেখযোগ্য অবদান রয়েছে। মহান মুক্তি সংগ্রামে আত্মত্যাগ করেছেন এ কলেজেরই ছাত্র আব্দুল মুকিত, আব্দুস সহীদ, কৃপেশ রঞ্জন কর, রহিম বখ্শ (খোকা), সুদর্শন দেব, সমীর কুমার সোম প্রমূখ।

কলেজের ক্লাস শুরু হয়েছিল ইন্টারমিডিয়েট কলেজ হিসেবে মাত্র ২০-২৫ জন শিক্ষার্থী নিয়ে। পরবর্তীকালে মহকুমা প্রশাসক জনাব আব্দুস সাত্তারের উদ্যোগে কলেজটি ডিগ্রী পর্যায়ে উন্নীত হয়। ৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকবাহিনী কর্তৃক কলেজটি প্রভুত ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অবশেষে অধ্যক্ষ মরহুম আ.ফ.ম. আব্দুল বারী সাহেবের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় পূণর্জীবনপ্রাপ্ত হয়ে ১ মার্চ ১৯৮০ সালে কলেজটি সরকারিকরণের পর সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় নতুন নতুন ভবন পর্যায়ক্রমে নির্মিত হয়েছে। ঐতিহ্যবাহী মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ এ জেলার একমাত্র উচ্চতর বিদ্যাপীঠ। প্রতিষ্ঠানটি ১৮.০০ একরের বেশি ভূমি নিয়ে জেলা সদরে স্বীয় অতিহ্যকে বুকে ধারণ করে দাড়িয়ে আছে- যাকে দেখলে একটি বোটানিকেল গার্ডেন বলে মনে হয়। কলেজটিতে সারি সারি বড় বড় যে বৃক্ষরাজি দেখা যায় সেটি যাঁর অবদানে তিনি হলেন প্রাক্তন চিরকুমার অধ্যক্ষ সরদার মোঃ আমজাদ হোসেন। পূর্বসুরী অধ্যক্ষের দেখিয়ে যাওয়া পথ ধরেই সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ননী গোপাল রায় কলেজের বিভিন্ন স্থানে বনজ, ফলদ, ঔষধি, আগরসহ বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদ রোপণ করে বিদ্যাপীঠটির সৌন্দর্য বর্ধন করেছেন। যার ভলে ২০০৬ সালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নিকট থেকে বৃক্ষ রোপণে তিনি জাতীয় পুরস্কার গ্রহণ করেন। বিগত ২০০৬ সাল পর্যন্ত মৌলভীবাজার জেলার কৃতী সন্তান মাননীয় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী মরহুম এম. সাইফুর রহমানের প্রচেষ্টায় কলেজের অবকাঠামোগত বৈপ্লবিক উন্নয়ন ঘটে। তাঁর চেষ্টায় নির্মিত হয়েছে একটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম, একটি দ্বিতল ছাত্রাবাস, একটি ত্রিতল ছাত্রীনিবাস, একটি ত্রিতল বিজ্ঞানভবন, একটি চারতলা একাডেমিক ভবন, একটি প্রশাসনিক ভবন এবং ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ১৯৯৪ সালে প্রধানমন্ত্রীর অনুদান হিসাবে একটি বড় বাস প্রদান করা হয়। তাছাড়া ১৯৯৪ সালে মাননীয় প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী মরহুম এম.সাইফুর রহমানের অনুরোধে তৎকালীন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মৌলভীবাজার সফরকালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে অনার্স কোর্স খোলার ঘোষণা দেন এবং এর প্রক্রিয়া শুরু হয়। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৯ ও ২০০০ সালে বর্তমান জাতীয় সংসদের মাননীয় চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ জনাব মোঃ আব্দুস শহীদের সরাসরি প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে একটি একতলা একাডেমিক ভবন এবং পরপর মোট ০৮টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়েছে। প্রসঙ্গগত উল্লেখ্য যে, স্বনামধন্য প্রাক্তন অধ্যক্ষ প্রফেসর ননী গোপাল রায় ২০০১ সালে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে যোগদানের পর কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও সুশিক্ষা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অনেক অভিনব ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপ গ্রহণ ও কলেজের ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধন করেন। ফলে প্রতি বছরই বিভিন্ন পরীক্ষায় ছাত্র-ছাত্রীরা খুব ভাল ফলাফল অর্জন করেছে। তাঁরই ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ২০০৩ সালে ৩টি বিষয়ে অনার্স কোর্স, ২০০৫-২০০৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে ০৫টি বিষয়ে মাস্টার্স এবং ২০০৬-২০০৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে আরো ৩টি বিষয়ে অনার্স কোর্স চালু হয়েছে। বর্তমানে ১৪টি বিষয়ে অনার্স ও ৫টি বিষয়ে মাস্টার্স কোর্স চালু রয়েছে। ২০০৮ সালে আরো ১০টি শিক্ষকের পদ সৃষ্টি হয়েছে। ২০০৯ সালে মাননীয় চীফ হুইপ মহোদয়ের প্রচেষ্টায় একাডেমিক ভবনের উর্দ্ধমুখী ২য় তলা সম্প্রসারণ করা হয়। প্রয়াত অধ্যক্ষ রণধীর দে তাঁর স্বল্পকালীন দায়িত্ব পালনকালে শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে বিবিধ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। প্রয়াত অধ্যক্ষ রণধীর দে’র অকাল মহাপ্রয়াণের পর ০৪ জানুয়ারি ২০১১ তারিখ জনাব মোঃ বদরুজ্জামান চৌধুরী ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে কলেজটির হাল ধরেন। তাঁর যোগ্য গতিশীল নেতৃত্বে এবং পূর্বসূরিদের রেখে যাওয়া কর্মপরিকল্পনার সাথে সমন্বয় রেখে আধুনিক প্রযুক্তি ও কর্মপরিকল্পনার যোগসাজসে দিন দিন কলেজটির কলেবর এবং শ্রী বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে এ কলেজে একাদশ শ্রেণি থেকে মাস্টার্স ১৪ হাজার ছাত্র-ছাত্রী অধ্যয়ন করছে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মহোদয় কলেজের সকল শিক্ষক ও স্থানীয় সুধীজনের সাথে এক মতবিনিময় সভার মাধ্যমে কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণীতে ২০১১ সাল থেকে নির্ধারিত পোশাকের প্রবর্তন করেন যা শৃঙ্খলা ও নিয়মানুবর্তিতার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদেরকে আরেক ধাপ এগিয়ে নিয়েছে।

অফ পিরিয়ডে ছাত্র-ছাত্রীদের বসার জন্য বৃক্ষের ছায়ায় তৈরি করা হয়েছে পাকা বেঞ্চ। কলেজ অঙ্গনে স্বাচ্ছন্দে চলাফেরা করার জন্য উঁচু-নিচু-ঢালু পথে প্রয়োজনীয় পাকা সিঁড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। কলেজের অভ্যন্তরে আরেকটি গেইট নির্মাণ করে যানবাহনের অবাধ চলাচলকে নিয়ন্ত্রণ করে শৃঙ্খলা আনয়ন করা হয়েছে। এ ছাড়া অপ্রীতিকর ঘটনা পরিহারের জন্য ও কলেজ অঙ্গনে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নিমিত্তে শিক্ষকবৃন্দের সমন্বয়ে ভিজিল্যান্স টিমের কার্যকারিতা চালু রয়েছে। ভিজিলেন্স টিমের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ প্রতিদিনই কলেজ ক্যাম্পাস পরিদর্শন করছেন। বিগত ১২/১১/২০১৩ তারিখে “শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে জেলা সদরে অবস্থিত সরকারি পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কলেজসমূহের উন্নয়ন শীর্ষক প্রকল্পের” আওতায় কলেজ ক্যাম্পাসের দক্ষিণ প্রান্তে ৫ তলা ভীত বিশিষ্ট ৩ তলা ‘শেখ হাসিনা একাডেমিক কাম এক্সামিনেশন হল’ ভবনটি উদ্বোধন করেন সাবেক চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুস শহীদ এমপি।

ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বেশ কয়েক বছর যাবৎ কলেজে পানির সংকট বিরাজমান। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ২০১১ সালে কলেজের বিজ্ঞান ভবনের কাছে একটি সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করে বিজ্ঞান ভবনে পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। অধ্যক্ষ মহোদয়ের প্রচেষ্টায় এবং মৌলভীবাজার পৌরসভার সম্মানিত মেয়র মহোদয়ের সদিচ্ছায় প্রশাসনিক ভবন ও শিক্ষক পরিষদ মিলনায়তনের সন্নিকটে আরও একটি সাবমারসিবল পাম্প স্থাপন করা হয়েছে। ফলে কিছুটা হলেও পানি সমস্যা লাঘব হয়েছে। ছাত্র-ছাত্রীদের পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ কলেজের অন্যান্য ভবন গুলিতে পানি সরবরাহের জন্য অচিরেই মৌলভীবাজার পৌরসভা পূর্নাঙ্গ পানি ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করবে বলে আশ্বাস প্রদান করেছেন। মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে স্ট্যাফিং প্যাটার্ন অনুযায়ী আরো ৬১টি শিক্ষক পদ এবং ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির ৩০টি পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এ লক্ষ্যে মাননীয় চীফ হুইপ উপাধ্যক্ষ জনাব মোঃ আব্দুস শহীদ সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করছেন এবং গত ১৪/০৭/২০১৪ইং তারিখে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকের ০৯টি পদ সৃষ্টি হয়। বাকি ৫২টি পদ ও ৩য়, ৪র্থ শ্রেণির ৩০টি পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে এবং সম্মান শ্রেণিতে আসন সংখ্যা বৃদ্ধির জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। বিগত ২৪/০২/২০১৩খ্রিঃ তারিখ প্রফেসর এস. এম. আকবর ইমাম অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেছেন। তিনি পূর্বসূরীদের রেখে যাওয়া উন্নয়ন কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তীতে প্রফেসর মোঃ শহিদুল্লাহ উক্ত কাজকে আরো বেগবান করেন এবং তার সাথে ০৯টি বিভাগে মাস্টার্স শেষপর্ব ও ০৫টি বিষয়ে মাস্টার্স ১ম পর্ব চালুর লক্ষ্যে কাজ শুরু করেন। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিদর্শন টিম ২৮/০২/২০১৫ তারিখে এ সংক্রান্ত পরিদর্শন কাজ সমাপ্ত করেছেন। আশা করা যাচ্ছে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে মৌলভীবাজার সরকারি কলেজে বাংলা, ইংরেজি, অর্থনীতি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও হিসাববিজ্ঞান- এ ৫টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর ১ম পর্ব এবং ইতিহাস, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি, দর্শন, ব্যবস্থাপনা, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, উদ্ভিদবিজ্ঞান, প্রাণিবিজ্ঞান ও গণিত এ ৯টি বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ পর্ব চালু করা সম্ভব হবে। এ কোর্সগুলো চালু হলে এতদঞ্চলের শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ সহজতর হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক ক্লাসরুমসমূহকে আধুনিকীরণের নিমিত্তে তৎকালীন অধ্যক্ষ প্রফেসর মোঃ শহিদুল্লাহ মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহন করেন। এ সময় একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের ব্যবস্থা করা হয়। বর্তমানে একাডেমিক কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক ১৪টি বিভাগকে নিজস্ব উদ্যোগে (স্ব স্ব বিভাগের অর্থায়নে) মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম স্থাপনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এছাড়াও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরো গতিশীল করার নিমিত্তে বর্তমান কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে কলেজের নতুন ডায়নামিক ওয়েবসাইটটি গত ফেব্র“য়ারি মাস থেকে চালু হয়। ফলে ছাত্র-ছাত্রী, অভিভাবক, শিক্ষক ও অন্যান্যরা কলেজের যাবতীয় তথ্য ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জানতে ও মত প্রকাশ করতে পারবে।
২৮/০১/২০১৫ইং তারিখ মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা জনাব সৈয়দ মহসিন আলী এমপি মহোদয় ছাত্রীদের জন্য নব নির্মিত বিপ্লবী লীলা নাগ হল উদ্বোধন করেন। ইতোমধ্যেই হলের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ কলেজের টিন শেড ভবন ভেঙ্গে একটি পাঁচতলা একাডেমিক ভবন, আরেকটি দ্বিতল ছাত্রাবাস নির্মানের জন্য মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহোদয় আশ্বাস প্রদান করেছেন। দুর দুরান্তের ছাত্র-ছাত্রীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী একটি বড় বাসের ব্যবস্থা করেছেন যা অচিরেই কলেজ কর্তৃপক্ষকে হস্তান্তর করা হবে।
মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ এ জেলার সর্ববৃহৎ একটি আদর্শ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি বিভাগেই শিক্ষক ও কর্মচারী সংকট ও নানা প্রতিকুলতার মাঝেও এ কলেজের শিক্ষকবৃন্দ ছাত্রছাত্রীদের পাঠদানে নিবেদিতপ্রাণ। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পরীক্ষার ফলাফলও সন্তোষজনক। কলেজের নিয়ম শৃঙ্খলা অতি উত্তম, নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রশিক্ষক সম্পর্ক অত্যন্ত মধুর। পাঠবহির্ভূত বিভিন্ন কার্যক্রম যেমন খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক সপ্তাহ, মিলাদ, পূজা, জাতীয় দিবসসমূহ পালন ইত্যাদি যথানিয়মে ও যথাসময়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অনুষ্ঠিত হয়। সর্বোপরি নান্দনিক শিক্ষার অগ্রযাত্রায় মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ উত্তরোত্তর এগিয়ে যাচ্ছে।